পেকুয়া প্রতিনিধি:
সরকার পরিবর্তনের পরও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নিয়ন্ত্রণে বালু ব্যবসা ও বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের পেকুয়ায়।
অভিযোগের তীর নিষিদ্ধ ঘোষিত কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এইচ এম শওকতের বিরুদ্ধে। যদিও তিনি বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই, তবুও তার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এস আমিন কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত করা হয়। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু, সিমেন্ট, তেলসহ বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী এবং জনবল সরবরাহের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন শওকত। এর মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর শওকত দেশ ছেড়ে আত্মগোপনে গেলেও তার ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বর্তমানে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক সংসদ সদস্য জাফর আলমের ভাতিজা শহিদুল আমিন এস আমিন কোম্পানির মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, মগনামা এলাকার কয়েকটি বড় চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানে এস আমিন কোম্পানির নামে বিভিন্ন ধরনের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া, অতীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগে শওকত কালো তালিকাভুক্ত হওয়ায় তিনি সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা না করে শহিদুল আমিনকে সামনে রেখে বালু পরিবহন ও অন্যান্য সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চট্টগ্রামের নুরু ফকির, মুরাদপুরের মনিরসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী নিয়মিত ওই প্রতিষ্ঠানে বালু সরবরাহ করছেন। এছাড়া, বাঁশখালীর বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুবের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান জারিফ এন্টারপ্রাইজ থেকেও বিভিন্ন মালামাল সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে বালু ব্যবসায়ী নুরু ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তালিকাভুক্ত যেকোনো কোম্পানিকেই আমরা বালু সরবরাহ করি। শওকতের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। তিনি কোন দলের রাজনীতি করেন, সেটি আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়।”
একই ধরনের বক্তব্য দেন অপর বালু সরবরাহকারী মনির। তিনি বলেন, “বিগত সরকার আমল থেকেই শওকতের সঙ্গে আমাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এখনো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বালু সরবরাহ করি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের সময়ও বহুল বিতর্কিত এই ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে মালামাল সরবরাহকারী হিসেবে যুক্ত রয়েছে। এতে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও পুরোনো সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় সাধারণ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী সুবিধা ভোগ করছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক এবং কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
